অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৩ মার্চ ২০২৬ , ০১:৩৩ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

#

হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল করলে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার হুমকি তেহরানের

ছবি সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে উত্তেজনা বাড়তে থাকায় তেহরান কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে। এমনকি এ প্রণালী দিয়ে কোনো জাহাজ চলাচল করলে এতে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার হুমকিও দিয়েছে।

স্থানীয় সময় সোমবার (২ মার্চ) ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর এক উপদেষ্টা রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে বলেন, এ নৌপথ কার্যত বন্ধ, সেখানে প্রবেশ করলে জাহাজগুলোকে কঠোর জবাব মোকাবিলা করতে হবে।


হরমুজ প্রণালী দিয়ে বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাস সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হয়। এর ফলে এটি বৈশ্বিক জ্বালানি পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুটে পরিণত হয়েছে।


ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির তথ্যমতে, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় আঘাত এখনও বাকি। তবে তিনি অভিযানের বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে অস্বীকৃতি জানান। শনিবারের মার্কিন পদক্ষেপকে তিনি ‘প্রতিরোধমূলক’ উল্লেখ করে বলেন, ইসরায়েলের হামলার জেরে ইরান মার্কিন বাহিনীর ওপর পাল্টা হামলা চালাতে পারে—এমন আশঙ্কা থেকেই ওয়াশিংটন ব্যবস্থা নিয়েছে।


রুবিও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ধ্বংস করা এবং তাদের নৌবাহিনীর মাধ্যমে বৈশ্বিক জাহাজ চলাচলের ওপর সম্ভাব্য হুমকি সীমিত করা।


তিনি আরও বলেন, ইরানের জনগণের নেতৃত্বে পরিবর্তনকে যুক্তরাষ্ট্র স্বাগত জানাবে, তবে সরকার পরিবর্তন (রেজিম চেঞ্জ) এ অভিযানের উদ্দেশ্য নয়।


প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে হামলার পর প্রথমবারের মতো বক্তব্য দিয়ে সামরিক অভিযান শুরুর সিদ্ধান্তকে শেষ এবং সর্বোত্তম সুযোগ বলে আখ্যা দেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এখনও বৃহৎ পরিসরের সামরিক অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।


হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল করলে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার হুমকি তেহরানের

বাহরাইনের মানামায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনার পর আকাশে ধোঁয়া উড়তে দেখা যায়। শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি। ছবি: সংগৃহীত

এদিকে, ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, ইরান ইসরায়েলের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে, তবে তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এ হামলা প্রতিহত করছে। ইসরায়েল তেহরানে হামলা জোরদার করেছে এবং লেবাননে হিজবুল্লাহর অবস্থান লক্ষ্য করে আঘাত হেনেছে।


লেবাননের স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বৈরুতে ইসরায়েলি বোমা হামলায় বহু মানুষ নিহত ও শত শত মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।


সৌদি আরব নিশ্চিত করেছে, রিয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসে দুটি ড্রোন আঘাত হেনেছে। এতে সীমিত অগ্নিকাণ্ড ও সামান্য অবকাঠামোগত ক্ষতি হয়েছে। আলাদাভাবে, দুবাইয়ের কাছে অস্ট্রেলিয়ান বাহিনী ব্যবহৃত একটি বিমানঘাঁটিতেও ড্রোন হামলা হয়েছে, তবে কোনো অস্ট্রেলীয় আহত হননি।


সংঘাতের প্রভাব বৈশ্বিক বাজারেও পড়ছে। আর্থিক তথ্য সরবরাহকারীদের মতে, মধ্যপ্রাচ্য থেকে চীনে তেল পরিবহনের জন্য একটি সুপারট্যাংকার ভাড়া করতে প্রতিদিন খরচ রেকর্ড ৪ লাখ ডলারের বেশি হয়েছে—যা গত সপ্তাহের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ।


তেহরানে ঐতিহাসিক গোলেস্তান প্রাসাদে ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। কাজার যুগের এই রাজপ্রাসাদ ইউনেসকো তালিকাভুক্ত ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা। ইরানি গণমাধ্যম জানিয়েছে, নিকটবর্তী বিস্ফোরণের প্রভাবে স্থাপনাটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যা সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রক্ষায় উদ্বেগ তৈরি করেছে।


মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর মধ্যপ্রাচ্যের বহু দেশ থেকে গুরুতর নিরাপত্তা ঝুঁকি বিবেচনায় মার্কিন নাগরিকদের সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সর্বশেষ ব্রিফিংয়ে জানানো হয়েছে, এ পর্যন্ত সংঘাতে ছয়জন মার্কিন সেনা সদস্য নিহত হয়েছেন।


ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল অভিযানে যুক্তরাজ্যের অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত ছিল পরিকল্পিত। তিনি বলেন, আকাশপথে হামলার মাধ্যমে সরকার পরিবর্তনকে তার সরকার সমর্থন করে না।


ক্ষেপণাস্ত্র ও বিমান হামলা অব্যাহত থাকায় আশঙ্কা বাড়ছে—এই সংঘাত বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে আরও বিঘ্ন ঘটাতে পারে এবং আরও আঞ্চলিক শক্তিকে এক বিস্তৃত যুদ্ধে জড়িয়ে ফেলতে পারে।


সূত্র : ইউএনবি