প্রকাশিত: ০১ মার্চ ২০২৬ , ০৭:৩৩ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
ছবি:গণকণ্ঠ
একসময় সুজলা-সুফলা, শস্য-শ্যামলা বাংলাদেশের তিন ফসলের সবুজ মাঠ চোখ জুড়াত। এখন সেখানে পদ্মা নদীর ভাঙনে নয়াকান্দি গ্রামের মানুষ পৈতৃক ভিটা ছেড়ে অন্যত্র যেতে বাধ্য হয়েছেন।
আর এভাবেই পদ্মার ভাঙ্গনের বর্ণনা করছিলেন এলাকার বয়স্ক মানুষরা।দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের প্রবেশদ্বার হিসেবে খ্যাত ঐতিহ্যবাহী শিবালয়ের পাটুরিয়া ঘাটে পূর্বদিকে আরুয়া ইউনিয়নের অন্তর্গত অবহেলিত নয়াকান্দি গ্রামের তিন ভাগের দুই ভাগে নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। যেটুকু অবশিষ্ট রয়েছে, সেইটুকু ভাঙ্গনের আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। দীর্ঘদিন যাবত তারা ভাঙ্গন রোধে স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণের দাবি জানালেও এখনো পর্যন্ত তাদের দাবি বাস্তবায়নে কর্তৃপক্ষ তেমন কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করেননি বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেন।
জানা গেছে, সম্প্রতি নয়াকান্দীতে অসময়ে হঠাৎ করে ভাঙ্গনে পাড় এলাকার কিছু অংশ নদী গর্ভে চলে গেছে। নয়াকান্দি নদীর পাড়ে পানির গভীরতা অনেক বেশি। ফলে স্রোত একেবারে কিনারায় এসে লাগছে বলে স্থানীয়রা জানান। পানির ঢেউয়ে নদীর পাড়ের তিন ফসলি জমি একটু-একটু করে ভেঙ্গে যাচ্ছে। এভাবে ভাঙতে থাকলে পুরো এলাকা নদী গর্ভে চলে যাবে বলে স্থানীয়রা আশংকা করছেন। ভাঙ্গনের আতঙ্কে দিন-রাত কাটাচ্ছেন এলাকার গ্রামবাসী।
সরেজমিন গিয়ে এলাকাবাসীর সাথে কথা হলে তারা বলেন , ১৯৯৮ সালে থেকে নয়াকান্দী এলাকা তীব্র ভাঙ্গন শুরু হয়। দীর্ঘ দুই যুগের বেশি সময় যাবৎ শুরু হওয়া পদ্মার ভাঙ্গনে আরুয়া ইউনিয়নের ভৌগলিক অবস্থানের অর্ধেক অংশই নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এতে, প্রায় দেড়শ/দুইশ' বাড়িঘর, গাছ-পালাসহ বহু ফসলি জমি নদী গর্ভে চলে গেছে। পাটুরিয়া ৫ নং ফেরিঘাটের পূর্বদিক থেকে বরুরিয়া, নয়াকান্দী এলাকা ভাঙ্গনের তীব্র ঝুঁকিতে রয়েছে বলে স্থানীয়রা জানান। বিশেষ করে, নয়াকান্দী এলাকার তিন ফসলের জমি প্রতিবছর একটু করে নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। এছাড়া, নয়াকান্দীর মুন্সী বাড়ি, হালদার বাড়ি ও ঢালিবাড়িসহ বহু গাছপালা ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।
এ এলাকায় নদীর পাড়ে বেড়িবাঁধ নির্মাণ করে নদী বন্দর ও পর্যটন নগরী গড়ে তোলা সম্ভব বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন স্থানীয়রা।
এদিকে, সম্প্রতি উপজেলার আরুয়া উনিয়নের এলাকাবাসীর উদ্যোগে পাটুরিয়া ঘাট এলাকার আরসিএল মোড়ে ভাঙ্গন রোধে স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণের দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে এলাকাবাসী। ফেরিঘাটসহ পাটুরিয়া ঘাটের পূর্ব দিকে বরুরিয়া-নয়াকান্দি পর্যন্ত নদীর পাড় এলাকায় ভাঙ্গনরোধে স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জোড় দাবি জানিয়েছেন তারা। এছাড়া, পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌরুটে চলাচলরত ফেরির চ্যানেল সক্রিয় রাখতে বিআইডব্লিউটিএ'র ডেজিং এর বালু নদীর ভিতরেই না ফেলে, নদীর তীরে পার এলাকায় ফেলার জন্য মানববন্ধনে বক্তারা দাবি জানান।
শিবালয় উপজেলা নির্বাহী অফিসার মনিষা রানী কর্মকার বলেন, আমাদের ডিসি স্যারের নেতৃত্বে বিআইডব্লিউটিএ ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা মহোদয়সহ সংশ্লিষ্ট সবাই একত্রিত হয়ে ঘাট পরিদর্শন করে নদী ভাঙ্গনরোধে সমন্বয় সভা করা হয়েছে। এই সমস্যা যাতে অতিদ্রুত সমাধান হয় সেজন্য প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা গ্রহণ করা হবে।
মানিকগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মুহাম্মদ আক্তারুজ্জামান বলেন, পাটুরিয়া ঘাটের ভাটির সংলগ্ন ধুতুরা বাড়ি, নয়াকান্দি ও বরুরিয়াসহ তৎসংলগ্ন ১৬ শত মিটার এলাকা ভাঙ্গন হতে রক্ষার্থে শুষ্ক মৌসুমেই সতর্কতামূলক কাজ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে মন্ত্রণালয়ে অর্থ বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে। অর্থ বরাদ্দ নিশ্চিত করা গেলে দ্রুত সতর্কতামূলক কাজটি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে। এছাড়া, পাটুরিয়া ঘাটের ভাটির সংলগ্ন প্রায় দুই হাজার মিটার স্থায়ী প্রতিরক্ষামূলক কাজ বাস্তবায়নের জন্য একটি কারিগরি কমিটি গঠন করা হয়েছে । মাঠ পর্যায়ে হতে জরিপ কাজ সম্পন্ন করে ডিজাইন প্রাপ্তির লক্ষ্যে ডিজাইন দপ্তর, পানি ভবন ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। সর্বোপরি দুই হাজার মিটার স্থায়ী প্রতিরক্ষামূলক কাজ বাস্তবায়নের জন্য ডিপিপি কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছ।